অবাস্তব ঘটনা কি বাস্তব ভাবনার ফলশ্রুতি?

অবাস্তব ঘটনা কি বাস্তব ভাবনার ফলশ্রুতি?

অবাস্তব ঘটনা কি বাস্তব ভাবনার ফলশ্রুতি
অবাস্তব ঘটনা কি বাস্তব ভাবনার ফলশ্রুতি

অন্যবাংলায় আজকে প্রকাশিত হলো শিবানী গুপ্ত এর অবাস্তব ঘটনা কি বাস্তব ভাবনার ফলশ্রুতি শিরোনামে ১ টি চমৎকার প্রবন্ধ। আপনারা এই অবাস্তব ঘটনা কি বাস্তব ভাবনার ফলশ্রুতি প্রবন্ধটি পড়ুন ও আপনাদের মতামত জানান।

শিরোনাম – অবাস্তব ঘটনা কি বাস্তব ভাবনার ফলশ্রুতি
কলমে – শিবানী গুপ্ত

সমাজের একশ্রেণীর কিছু মানুষ শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করবার জন্য সাধারন মানুষের মাঝে কিছু গুজব ছড়িয়ে আত্মপ্রসাদ লাভ করে এবং তৎসঙ্গে নানা বুজরুকি দিয়ে অর্থ উপার্জন করে থাকে।
এই ধরনের মানুষের হীনমন্যতা বোধ এতোটাই যে তারা নানাভাবে গুজব ছড়িয়ে লোক ঠকানোর কাজ করে । এরা খুব ধূর্ত ও চতুরতার সাথে বিচক্ষণতার মুখোশ এঁটে মানুষকে পর্যবেক্ষণ করে নানা অবাস্তব কথা বলে ভয়ের উদ্রেক করে এবং তাঁদেরকে বিভ্রান্ত করার নানা পন্থা বের করে ফাঁসাতে চায়।

আর , তথাকথিত সাধারন নির্বোধ মানুষগুলোও ভীতমনে নানা আশঙ্কার শিকার হয়ে পড়ে। বুঝতেই চায়না যে এইসব কথাগুলোর মূলতঃ কোন ভিত্তি বা প্রমাণ নেই। জীবনের আশঙ্কায় বা নিজেদের পরিবারের ক্ষতির আশঙ্কা থেকে পরিত্রাণের উপায় খুঁজতে তাঁরা এদের শরণাপন্ন হয়।
আর সুবিধাবাদী প্রবঞ্চকেরাও এই মোক্ষম দূর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে নানারকম ঔষধি,জড়িবুটি, তাবিজ, কবজ,মাদুলী ইত্যাদি দিয়ে অর্থ উপার্জন করে।
এইধরনের লোকেদের এটাই জীবিকা।


কেউবা সাধুবেশে,কেউবা গেরুয়াধারী,কেউবা কণ্ঠে তুলসীমালা পড়ে লোক ঠকানোর ব্যাবসা চালায়। অথচ অবাক কান্ড যে, সমাজের বুদ্ধিজীবী মানুষেরা এসব দেখেন বোঝেন তথাপি কোন প্রতিবাদে মুখর হননা। উপরন্তু ক্ষেত্রবিশেষে বুদ্ধিজীবী হয়েও নিজেরাও কখনো কখনো এদের পাল্লায় কখনো পড়েন।
যদিইবা কখনো কেউ নিজে ঠকে গিয়ে রুখে উঠে প্রতিবাদ করতে এগোতে চান তখন আবার কিছু মানুষ লোভে পড়ে আর্থিক ক্ষমতা লাভের কারনে এইসকল দুষ্ট প্রবঞ্চক ওঝাদের কথাই সমর্থন করেন।
ফলে,সমস্যাপিড়ীত মানুষ অর্থের বিনিময়ে তাবিজ কবজ মাদুলি ,বা গাছের শিকরকে আঙটি করে ধারন করেন।

See also  দেশলাইয়ের বাক্স


হয়তো কারো নিজ ভাগ্যবলে কোন কাজের সুরাহা হলো ,বা কোন সুবাদে আর্থিক সঙ্গতি লাভ হলো,অথবা কেউ ভালো চাকরি পেয়ে গেলো,কারো হয়তো ব্যবসাতে উন্নতি হলো,আবার কেউ হয়তো রাজনৈতিক ক্ষমতায় আসীন হলো তখন সেই মানুষেরা ভাবেন যে এসব ওই মাদুলি,কবজ,গ্রহরত্নাদি কারনেই সম্ভব হয়েছে যারজন্যে এইসব কুসংস্কারে আরো আবদ্ধ হয়ে পড়েন। যারা নিজের দুর্বল মনের ভাবনাতে মনে করে বুঝিবা এসমস্ত সেই কবজ,তাবিজ বা মাদুলির ফলেই হয়েছে।এতে তাদের মনে অন্ধ বিশ্বাস শিকড় গেড়ে বসে। তাই খুশি হয়ে অর্থ দিতে,
আপ্যায়ণ করতে দ্বিধা করেন না।


আসলে,এই বোকা নির্বোধ কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষগুলো ভাবেন সবাই যেটাকে অবাস্তব ভাবনা বলে মূলতঃ সেটাই বাস্তব। ভাগ্যিস তিনি ওই তাবিজ কবজ মাদুলি ধারন করেছিলেন বলেই না আজকে অনেক টাকার মালিক ,চাকরিতে বহাল ,বা রাজনীতিবিদ হতে পেরে সুখে শান্তিতে আছেন।
কিন্তু এসব তো সমাজের পক্ষে হিতকর নয়।সমাজের মানুষদের এইসব বিষয়ে এবারে সচেতন হওয়া উচিত। কঠোরভাবে অবাস্তব ঘটনা গুলোকে এড়িয়ে চলা উচিত। এইসব কপটাচারী মানুষ থেকে দূরে থাকা উচিত।অবাস্তব ভাবনা মন থেকে সরিয়ে বাস্তব ঘটনা বা বাস্তব ভাবনাকেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত ।
সাপে কাটলে ওঝাদের ঝাড়ফুঁক নয়,ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত। চিকিৎসা বিজ্ঞান মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হয় এটাই চেতনায় রাখলে মানুষ উপকৃত হবে বলাই বাহুল্য।