দেশলাইয়ের বাক্স

দেশলাইয়ের বাক্স

দেশলাইয়ের বাক্স
রাজিত বন্দোপাধ্যায় ।
দেশলাইয়ের বাক্স
দেশলাইয়ের বাক্স

— দেশলাইয়ের বাক্স !
কথাটায় দরজার ফ্রেমে দেখলাম সাদা কালো ছায়াছবির মত কাপে ধূমায়িত চা নিয়ে সঞ্জীবনীকে । পরনে পাড়হীন ছাপা শাড়ি ; অসহায় চোখে হাহাকার ; এক অসমাপ্ত বিবর্ণ ছবি । কেবল পোয়াতী পেটটা বলে দিচ্ছে নীলাঞ্জন হারায় নি ।
একই কলেজে আমরা দুজনে পড়তাম সঞ্জীবনীর সঙ্গে । নীলাঞ্জনের বিয়ের পর ভালই চলছিল সব । আমার রহস্য গল্প লেখা , নীলাঞ্জনের কুইক মানির পিছনে ছোটা , সঞ্জীবনীর পড়াশোনা । আচমকা বাঁধ সাধল লাটে ওঠার নীলাঞ্জনের চিট ফান্ড কোম্পানী। দু মাসের মধ্যেই খুন হয়ে গেল ব্রাঞ্চ ম্যানেজার নীলাঞ্জন রায় ।


পুলিশের অনুসন্ধানে খুনীরা ধরা পড়লেও পাওয়া গেল না জমা না দেওয়া চিট ফান্ডের পাঁচ কোটি টাকা ! কোথায় গেল ?? রহস্য জমজমাট । অবশেষে আমার পুলিশ বন্ধুর অনুরোধে অতলে নেমে পেলাম নীলাঞ্জনের পকেটে থাকা দেশলাইয়ের বাক্স ! ‘ উপসংহার ‘ – এর অগ্নিবাণ নাকি !!
— কিন্তু তোমরা তো স্মোক করো না !
সঞ্জীবনীর চোখে বিস্ময় ।
— ইদানিং ?
— কস্মিনকালেও না ।


হাতের বাক্সটা পকেটে রাখতে যেয়ে হাতের চেটোয় কী একটা উঠে এল ! হাত বের করতেই অবাক কান্ড , বাক্সর স্টীকার লেবেল ! পিছনে কিছু অস্পষ্ট লেখা । মন সংযোগে বোঝা গেল JH 05 B 1420 ! একি বলিউডের
‘ ভিক্টোরিয়া নম্বর 203 ‘ !!


অতএব আবার মোবাইল । পুলিশ জানালো , গাড়িটা রোড এ্যাকসিডেন্টে মারা যাওয়া শিক্ষিকার । কোন থানার কব্জায় অজানা । অতএব মগজাস্ত্র প্রয়োগ । খুনের রিপোর্ট বলছে , তাড়া খেয়ে প্রাণ বাঁচাতে সে গিয়ে সেঁধিয়েছিল থানায় । তবে কি … ? আবার ফোন । এবার ঠিক পাওয়া গিয়েছে স্কুটীটা । সঞ্জীবনী কে নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম । এ কী রহস্য রে বাবাঃ ! গাড়িতে কিচ্ছু নেই । তবে , সীটের রেক্সিনের তলে ও কী সাজানো ? পাঁচশোটা বান্ডিল ! পুলিশ বন্ধু বললেন ,
— কী রিওয়ার্ড চাও ?
— সঞ্জীবনীর নামে চিট ফান্ডে গচ্ছিত টাকা কটা ।
এবার মাথা উঁচু করে থানা থেকে বেরোলো সঞ্জীবনী । বাড়ি পৌঁছে দিতে যেয়ে হঠাৎই দেয়ালে টাঙ্গানো নীলাঞ্জনের জীবন্ত ফটোটাতে চোখ পড়ল । বুঝি পালক পড়ল ! যেন ফিসফিসিয়ে বলল ,
— ধন্যবাদ দিতে !

See also  ছোট গল্প: মায়ের চিঠি
অন্যবাংলা অনলাইনের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আরো পড়ুন

হারানোর পথে পাখির কলকাকলি
ছোট গল্প: মায়ের চিঠি
আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হন
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হন
আমাদের ফেসবুক গ্রুপে যুক্ত হন
আমাদের ফেসবুক পেজ এ যুক্ত হন

1 thought on “দেশলাইয়ের বাক্স”

  1. প্রথমে আমার শিরোনাম টি নজর কেড়েছিলো। পরে পড়ে একটা থ্রিলার থ্রিলার ভাব পেলুম। তবে লেখকের লেখার সম্পর্ক গাঁথুনি আরো শক্ত করা প্রয়োজন। কিছু জায়গায় কাহিনি খাপছাড়া হয়ে গিয়েছে। শুভকামনা নিরন্তর।

    Reply

Leave a Comment